bdlive24

নোবেলজয়ী কাজুও ইশিগুরো: দুই দেশের কণ্ঠস্বর

শুক্রবার অক্টোবর ১৩, ২০১৭, ০৮:২৪ পিএম.


নোবেলজয়ী কাজুও ইশিগুরো: দুই দেশের কণ্ঠস্বর

বিডিলাইভ ডেস্ক: এই বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক কাজুও ইশিগুরো। এর আগে আজকের সময়ের অন্যতম বিখ্যাত এই ইংরেজ জাপানি লেখক চারবার ম্যান বুকার প্রাইজের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালে ‘দ্য টাইমস’ ম্যাগাজিন তাকে ব্রিটেনের সেরা ৫০ লেখকের তালিকায় রেখেছিল। তারও আগে ২০০৫ সালে ‘টাইম’ ম্যাগাজিন তার ‘নেভার লেট মি গো’ উপন্যাসকে শত সেরা ইংরেজি উপন্যাসের তালিকায় ঠাঁই দিয়েছিল।

১৯৫৪ সালে জাপানের নাগাসাকিতে জন্মেছেন কাজুও ইশিগুরো। তবে জাপানে জন্ম হলেও ইশিগুরো ব্রিটিশ সাহিত্যিক হিসেবেই পরিচিত।

পাঁচ বছর বয়সেই তিনি পরিবারের সাথে ব্রিটেন চলে আসেন। ১৯৮০ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট এঞ্জিলা থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে মাস্টার্স করেন। ১৯৮২ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান। তার উচ্চশিক্ষা ব্রিটেনেই হয়েছে। ক্রমশই তিনি পুরো দস্তর ব্রিটিশ হয়ে ওঠেন।

যদিও ইশিগুরোর প্রথম দুটি উপন্যাসের প্রেক্ষাপট জাপান, তবু তার রচনায় জাপানি রীতির কোনো প্রভাব নেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ছদ্মনামে লিখতাম এবং আমার বইয়ের জ্যাকেটে অন্য কেউ আমার হয়ে ছবিতে পোজ দিতো আমি নিশ্চিত কেউ এটা বলার কথাও ভাবতো না যে, এই লোকটাই সেই জাপানি লেখক।’

বলা দরকার, এ কথা অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন, তার রচনার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করে। কখনোবা তার লেখাতে জুনিচিরো তানিজাকি’র প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে কাজুও ইশিগুরো সাহিত্য নয়, তার লেখায় জাপানি চলচ্চিত্রের প্রভাব আছে বলে উল্লেখ করেন। ইউসুজিরো ওজু এবং মিকিও নারুসের চলচ্চিত্র তাকে প্রভাবিত করে।

দেশ ছাড়ার ত্রিশ বছর পর জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে দেশে ফিরলে নোবেলজয়ী জাপানি অপর সাহিত্যিক কেনজাবুরে ওয়ে (১৯৯৪ সালে নোবেল পেয়েছেন)-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার প্রথম দুটি উপন্যাসের জাপানি পরিপ্রেক্ষিত অনেকটাই কাল্পনিক।

অল্প বয়সে দেশ ছাড়লেও জাপান তাকে কখনো ছেড়ে যায়নি। পাসপোর্ট আর বিশ্ব রাজনীতির বিবেচনায় কাজুও ব্রিটিশ হলেও তার আত্মা আর রক্তজুড়ে জাপানের সুর রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে কাজুও বলেন, ‘আমি বড় হয়েছি আমার করোটির ভেতর অন্য আরেকটি দেশের তীব্র কল্পনা নিয়ে, এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দেশ যার সঙ্গে আমার রয়েছে দৃঢ় আবেগী বন্ধন... ইংল্যান্ডে আমি সব সময় এই ছবি আমার মগজে নিয়ে বড় হয়েছি, এক কাল্পনিক জাপানের ছবি।’

‘আমি পুরোপুরি ইংরেজ লোকদের মতো নই, কারণ আমি বড় হয়েছি জাপানি পিতা-মাতার ক্রোড়ে, জাপানি মাতৃভাষার গৃহে। আমার পিতামাতা বুঝতে পেরেছিলেন আমরা এই দেশে এতো দীর্ঘকাল ধরে অবস্থান করবো। তারা আমাদের সঙ্গে জাপানি মূল্যবোধের সংযোগ রাখার দায়িত্ব পালন করেছেন সদাই। নিশ্চয়ই আমার একটা সুনির্দিষ্ট পটভূমি আছে, আমার দৃষ্টিভঙ্গি তাই সামান্য হলেও আলাদা।’

দেশ, ভাষা কিংবা জাতিগত কারণে মানুষ কখনোই বস্তুর মতো খণ্ড-বিখণ্ড হয় না। মানুষ এক সামগ্রিক সত্তা। ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন জাতির প্রেক্ষাপটে মানুষ অনেক বেশি বৈচিত্রময় ও ভিন্নতর হয়। কাজুও ইশিগুরোর লেখায় সেই ভিন্নতা পাই। এটাই যেন তার লেখার পেশীতে যোগায় বাড়তি শক্তি।

নিঃসন্দেহে আগামী ৮ নভেম্বর জীবনের ৬৩তম জন্মদিনটি কাজুও ইশিগুরোর জন্য আলাদা গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্রময় হবে। ‘এন আর্টিস্ট অফ দ্য ফ্লোটিং ওয়ার্ল্ড’, ‘দ্য রিমেইন্স অফ দ্য ডে’, ‘হোয়েন উই ওয়্যার ওরফান’, ‘নেভার লেট মি গো’ তার বিশ্বখ্যাত উপন্যাস। পাঁচটি গল্প নিয়ে রচিত তার গল্পগ্রন্থ নকটার্নসও বিশ্বব্যাপী আলোচিত। তিনি ইতিপূর্বে উইনিফ্রেড হল্টবি মেমোরিয়াল প্রাইজ (১৯৮২), হোয়াটব্রেইড প্রাইজ (১৯৮৬), বুকার প্রাইজ (১৯৮৯) স্যাভালি দ্যু  লর্দে দে আর্টস এত্যুদেস লেটার (১৯৯৮) পেয়েছেন।


ঢাকা, অক্টোবর ১৩(বিডিলাইভ২৪)// ই নি
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.