সর্বশেষ
সোমবার ৭ই কার্তিক ১৪২৫ | ২২ অক্টোবর ২০১৮

বিএমডব্লিউ বাইকে চড়ে ইরানি তরুণীর বিশ্বভ্রমণ!

বুধবার, নভেম্বর ১, ২০১৭

1611289524_1509525930.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
লেদারের জ্যাকেট গায়ে ও দস্তানা হাতে দ্রুত বাইক নিয়ে ছুটে চলেন তিনি। নাম মারালা ইয়াজারলু। ইরান থেকে ভারতে এসে এমবিএ ও পিএইচডি করে পেশা জীবনের শুরু সেখানেই। ফ্যাশনে আগ্রহী ইয়াজারলু মোটরবাইক চালিয়ে ৪৫টি দেশ ভ্রমণ করতে চান।

১৮ মাসে ১ লাখ কিলোমিটার বাইক চালানোর মিশনে নেমেছেন ইয়াজারলু। বিশ্বের সাতটি মহাদেশের ৪৫টি দেশে বাইক নিয়ে সফর করেছেন তিনি। গত মার্চ মাসে সফর শুরু করেছেন ৩৫ বছরের ইয়াজারলু। বর্তমানে রয়েছেন পেরুতে। সুপারবাইক চালিয়ে বাঁধ ভাঙার গল্প তিনি শোনাতে চান সবাইকে। কাজ করতে চান নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে।

ইরানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ইয়াজারলু ২০০৪ সালে আসেন ভারতের পুনেতে। তিনি ভারতে আসার পরই মোটরবাইক চালানো শুরু করেন। কারণ ইরানে নারীদের বাইক চালানোর অনুমতি নেই। ৮০০ সিসির বিএমডব্লিউ জিএস বাইকে চড়ে ১০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার অবিশ্বাস্য গল্প অনেক সীমাবদ্ধতাকে হার মানিয়েছে। সঙ্গে রয়েছেন ফটোগ্রাফার ও ডকুমেন্টারি ছবি নির্মাতা ৪২ বছর বয়সী পঙ্কজ ত্রিবেদী। সমস্যা সংকুল অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। তবে এরপরও ব্যাকআপ গাড়ি এবং বিপদে সাহায্যের জন্য তার সমর্থনে কাউকে সঙ্গে নেননি ইয়াজারলু।

নারীদের সম্পর্কে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যে বিধিনিষেধ রয়েছে তা ভাঙতেই তার এই বাইক-সফর বলে জানিয়েছেন ইয়াজারলু। তার এই মিশনের নাম ‘রাইড টু বি ওয়ান’। ইতিমধ্যেই মায়ানমার, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া পার করে সফরের প্রথম ভাগ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো। তৃতীয় ভাগে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান, ইজিপ্ট এবং চতুর্থ ও চূড়ান্ত ভাগে গ্রিস, তুরস্ক, চীন সফর করে ভারতে ফেরত আসবেন তারা।



বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসাবে অ্যান্টার্কটিকায় তুষার ও বরফের মধ্যও বাইক চালাতে চান ইয়াজারলু। এর আগেও সেখানে বাইক চালানোর ইচ্ছে পূরণ হয়নি ছোট বাইকের কারণে। সেখানে একটি নৌকায় এক মাস কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। তিনি যাত্রাপথে ইরানে যেতে চান। যদিও সেখানে নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি নেই। মেয়েদের বাইক চালানো ইসলাম-বিরোধী নয়, এটা বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

এর আগে এ বছরে এক খবরে জানা যায়, ইরানে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বাইক চালানোয়। এমনকি গত বছর মোটরসাইকেল চালানো থেকে নারীদের বিরত রাখতে ফতোয়া জারি করা হয় ইরানে।

ইয়াজারলু বলেন, ‘আমার চাওয়ার (ইরানে নারীদের বাইক চালানোর অনুমতি) ব্যাপারটি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ নয়। আমি সরকারবিরোধী বা বিদ্রোহী নই। এটা শুধু আমার একটি অনুরোধ এবং আমি এ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। আমি এ ব্যাপারে ইতিবাচক এবং আশা করি, শিগগিরই ইরানি নারীরা বাইক চালাবে।’

ইয়াজারলু বিপণন পেশায় ব্যস্ত সময় পার করলেও করা মারাল ইয়াজারলু ২০১২ সালে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘মা ইয়া’ চালু করেন। শিশু এবং বিয়ের জন্য বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাকের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘মা ইয়া’। তিনি পুনের হার্লি ওনার্স গ্রুপের (এইচওজি) সদস্য। বর্তমানে বিশ্বভ্রমণে আছেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পোশাক এবং পোশাকে চলতি ধারা নিয়ে প্রচার চালাবেন। বিশ্ব সফর শেষে ভারতে ফেরার পরে তিনি ফ্যাশন শোর আয়োজন করতে চান।

ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ১, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৭০৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন