সর্বশেষ
শুক্রবার ৭ই বৈশাখ ১৪২৫ | ২০ এপ্রিল ২০১৮

ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

শুক্রবার, নভেম্বর ১০, ২০১৭

316844291_1510324982.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে রংপুরের সদর উপজেলার পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৫ জন।

কোতোয়ালী থানার ওসি (অপারেশন) মোকতারুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছেন তারা।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া এলাকার মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায় ৫ নভেম্বর ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ স্ট্যাটাস দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন থেকে ওই গ্রাম ও আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন টিটু রায়। থাকেন সেখানেই। তিনি পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী জানান, শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে হঠাৎ করে উপজেলার শলেয়া শাহ, বালাপাড়াসহ আরও কয়েকটি এলাকার কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ জনগণ হরকলি ঠাকুরপাড়ায় অবস্থিত অভিযুক্ত টিটু রায়ের বাড়িতে আগুন দেয়। এতে তাদের তিনটি ঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়। এরপর ওই এলাকার আরও সাতটি বাড়ির ১৫টি ঘরে আগুন দিলে সেগুলো ভস্মীভূত হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে তারা গুলি চালালে আহত হন ছয় জন। তাদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নামে এক তরুণ মারা গেছেন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টিটু রায়ের তিনটি ঘর ছাড়াও সুধীর রায়ের ছয়টি ঘর, অমূল্য রায়ের দুটি ঘর, বিধান রায়ের দুটি ঘর, কৌশল্ল রায়ের দুটি, কুলীন রায়ের একটি, ক্ষীরোদ রায়ের একটি, দীনেশ রায়ের একটি ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। টিটু রায়ের ঘরে সামনে আহাজারি করতে করতে তার মা জিতেন বালা বলেন, ‘আমরা কিছুই জানি না। কেন আমাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হলো। এখন আমি কেমন করিয়া বাস করব।’

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় চার ঘণ্টা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে অবরোধের মাধ্যমে বিক্ষোভ করেছে। এ কারণে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। জনতা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের গ্রামে হামলার এরকম ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘটেছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে এক বৌদ্ধপল্লীতে একই অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অনেকটা একই কায়দায় একটি হিন্দু পল্লীতে হামলা চালানো হয় একই ধরণের অভিযোগ তুলে।

ঢাকা, শুক্রবার, নভেম্বর ১০, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // ই নি এই লেখাটি ১৬৭ বার পড়া হয়েছে