bdlive24

সাদ হারিরিকে 'বশে' আনতে যা করেছে সৌদি

সোমবার নভেম্বর ১৩, ২০১৭, ০৮:৩৯ এএম.


সাদ হারিরিকে 'বশে' আনতে যা করেছে সৌদি

বিডিলাইভ ডেস্ক: ৩ নভেম্বর শুক্রবার লেবাননের প্রধানমন্ত্রী (সদ্য পদত্যাগী) সাদ আল-হারিরি দেশ থেকে উড়োজাহাজে চড়ে সৌদি আরবের মাটিতে নামেন। কিন্তু এক অদ্ভুত রকমের বিস্ময় ঘিরে ধরে তাঁকে। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে কোনো প্রিন্স বা শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের সারি ছিল না। অপেক্ষায় ছিল না ফুল হাতে কেউ। কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে সরকারি সফরে এ যে একেবারেই বেমানান দৃশ্য।

এই কথাগুলো বলেছেন সাদ হারিরির ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র, লেবাননের ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

তারা আরও বলেন, সৌদির বিমানবন্দরে নামার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সাদের মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতি মারফত তাকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করতে বাধ্য করা হয়।

এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে রক্ষণশীল সুন্নি রাজতান্ত্রিক দেশ সৌদি আরব ও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের মধ্যে ক্ষমতার অদৃশ্য লড়াইয়ে আবারও পুরোভাগে নিয়ে এল লেবাননকে।

দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে দুর্বল করতে সৌদি চেষ্টা চালাচ্ছে। হিজবুল্লাহ লেবাননের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ও সেখানকার ক্ষমতাসীন সরকারের শরিক।

হারিরির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর অভিযোগ, লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রফিক আল-হারিরির ছেলে ও নিজেদের পুরোনো মিত্র সাদ হারিরিকে জোর করেই ‘বশে এনেছে’ সৌদি। বাধ্য করেছে পদত্যাগে এবং এরপর গৃহবন্দী করে রেখেছে। কেননা, তিনি হিজবুল্লাহর সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাইছিলেন না। এর আগে ২০০৫ সালে তাঁর বাবা রফিক হারিরি আততায়ীর হাতে প্রাণ হারান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লেবানন সরকারের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, সাদকে আটকাবস্থায় রেখেছে সৌদি আরব। তাঁকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশের সহযোগিতা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে বৈরুত।

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন গত শনিবার বলেছেন, এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর সাদ হারিরি কেন দেশে ফিরছেন না, তা জানাতে হবে সৌদি আরবকে।

একাধিক সূত্র বলেছে, রিয়াদ সাদের স্থলে তাঁর বড় ভাই ও লেবাননের শীর্ষস্থানীয় সুন্নি রাজনীতিবিদ বাহাকে বসাতে চাইছে। বাহাও বর্তমানে সৌদিতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লেবাননে থাকা হারিরির পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সৌদি আরবে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে বাহার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, তিনি মুক্তই আছেন। তবে বিমানবন্দরের ওই অবস্থা, মুঠোফোন জব্দ করা বা তাঁর স্থলে তাঁর ভাইকে বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি। আবার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এ পর্যন্ত সাদ হারিরিও জনসমক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি।


ঢাকা, নভেম্বর ১৩(বিডিলাইভ২৪)// পি ডি
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.