সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২রা মাঘ ১৪২৪ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৮

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

সোমবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৭

305788512_1510542189.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
আজ ১৩ নভেম্বর, বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন৷ বিংশ শতাব্দীর বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ।

তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার গীতিকার। বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ।

নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে।

তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীও তার সৃষ্টিকর্মের অন্তর্গত। বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীকে তিনি জনপ্রিয় করে তোলেন।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার কেন্দুয়ার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শহিদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তার পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবনে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবনের শুরু। এই উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরে ১৯৭২ সালে কবি-সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স কর্তৃক গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত বাংলা ভাষাশাস্ত্র পণ্ডিত আহমদ শরীফ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যামোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শঙ্খনীল কারাগার তার দ্বিতীয় গ্রন্থ।

তার রচিত প্রথম সায়েন্স ফিকশন 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা'। তার নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তার টেলিভিশন নাটকগুলি ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তার রচিত গানগুলোও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তার অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তার নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেঁটুপুত্র কমলা ইত্যাদি।

এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী, পাঠকপ্রিয় সাহিত্যিক পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, মাইকেল মধুসূদন পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা৷

দীর্ঘ নয় মাস ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রিয় লেখকের জন্মদিনে তাকে জানাই আমাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ঢাকা, সোমবার ১৩ই নভেম্বর ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি 12 বার পড়া হয়েছে