bdlive24

শিক্ষা কর্মকর্তার আচরণের প্রতিবাদে শিক্ষকদের সভা বর্জন

মঙ্গলবার নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১১:১৬ পিএম.


শিক্ষা কর্মকর্তার আচরণের প্রতিবাদে শিক্ষকদের সভা বর্জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা খাতুন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করায় প্রতিবাদে শিক্ষকরা ওই সভা বর্জন করে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পিটিআই-এ অনুষ্ঠিত সভায় ঘটনাটি ঘটে।

শিক্ষকরা জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভা মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। দেড়টা থেকে ১ ঘন্টা বিরতির পর সভার দ্বিতীয় পর্বে দুপুর আড়াইটার সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সভাস্থলে আসেন। সভার শুরুতেই তিনি শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্কুলের নাম ধরে ‘রোল কল’ করেন। এসময় তিনি সদর উপজেলার ২১২টি সরকারী প্রাথমিক স্কুলের নাম ডাকেন। নাম ডাকাকালেই অনেকে উপস্থিত হন। কিন্তু তিনি বলেন, নাম ডাকার পরে যারা এসেছে তাদের অনুপস্থিত ধরা হবে ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথেও অসদাচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ‘ঠ্যাঙ ভেঙ্গে দেওয়া হবে’ জাতীয় বাক্য ব্যবহার করেন। শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে আব্দুল কাদের শিক্ষকদের ভাল না লাগলে বেরিয়ে যেতে বলেন। এ পর্যায়ে শিক্ষকরা সভা বর্জন করে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে পিটিআই ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেন। এসময় ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতিরও প্রতিবাদ করেন তাঁরা। পুলিশ তাঁদের ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাবার জন্য বললে, শিক্ষকরা অসম্মতি জানান। শিক্ষক নেতৃবৃন্দের এক ধরনের মধ্যস্থতার পরে বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জড়ো হওয়া শিক্ষকদের মাঝে গিয়ে বলেন, আমি যা বলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছি। শিক্ষকদের কোন কথা বলিনি। তিনি শিক্ষকদের বিষয়টি ভুলে যাবার জন্য বলেন। এই সময়ও শিক্ষকরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আচরণ ও অসঙ্গত ভাষা ব্যবহারের প্রতিবাদ জানান।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান, আর কয়েকদিন পরেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্যই তিনি সভায় উপস্থিত হন। সভায় অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদেরও অনেকেই গুঞ্জন করছিল। এজন্য তাদের বলা হয়েছে, এখানে ভালো না লাগলে বাইরে যান। এছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নির্দেশনামূলক কথা বলা হয়। কথা বলার সময় কন্ঠ একটু রূঢ় হয়েছে এই যা। তবে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কোন খারাপ কথা বলা হয়নি।


ঢাকা, নভেম্বর ১৪(বিডিলাইভ২৪)// ই নি
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.