সর্বশেষ
সোমবার ১১ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২৫ জুন ২০১৮

মাশরাফির যে ‘জাদুর’ ছোঁয়ায় জ্বলে উঠলেন ইমরুল!

সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০১৫

1617820535_1447087717.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
এখানেই হচ্ছে মাশরাফির জাদু। অন্য অধিনায়কের সঙ্গে বড়ই পার্থক্যটা তার। অন্যরা যেটা সাদা চোখে দেখতে পায় না, মাশরাফি সেটা দেখেন অনায়াসে। বুঝতে পারেন সতীর্থদের অন্তরের ভাষাও। আর এই ভাষা বুঝে যাকে যেমনটা দরকার, তাকে তেমন ওষুধ দিয়ে দেন। আর তাতেই হয় বাজিমাত।

সেই বিশ্বকাপের পর থেকে সীমিত ওভার ক্রিকেটে ব্রাত্য ইমরুল কায়েস। অথচ টেস্টে রানের ফোয়ারা ছোটাচ্ছেন বাঁ হাতি ওপেনার। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ছিলেন দারুণ ফর্মে। সৌম্য সরকারের চোটে আকস্মিকভাবেই ডাক পেলেন দলে। দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতে জায়গা করে নিলেন একাদশেও।

ম্যাচের আগে বিষম চাপ জেঁকে বসল ইমরুলের ওপর। সতীর্থেরা যেখানে নির্ভারচিত্তে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ইমরুলের সেখানে আচ্ছন্ন ছিলেন অদ্ভুত একাকিত্বে। মাশরাফি বুঝলেন, ইমরুলের ভেতরের বারুদটায় আগুন দিতে হবে! টিম বাস থেকে নেমেই ড্রেসিংরুমে ঢুকে মাশরাফি কথা বলেন ইমরুলের সঙ্গে। কীসের এত চাপ, এত ভাবনা! যাও খেল, নির্ভার হয়ে খেল! শূন্য রানে ফিরলেও অসুবিধা নেই!

অধিনায়কের এমন ‘লাইসেন্স’ পেলে একজন ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস কোন পর্যায়ে পৌঁছে, নিশ্চয় অনুমেয়। কাজ হলো মাশরাফির কথায়। এ বছর টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ইমরুলের ব্যাট হাসল। যদিও একটু ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। তবে ইমরুলের ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ, চাপকে ফুত্কারে উড়িয়ে নির্ভার হওয়ার ছবি। নইলে ৭৬ রানের ইনিংসটার মধ্যে বাউন্ডারি থেকে ৪৮ আসবে কী করে!

ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনায় মাশরাফির প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ ইমরুল, ‘‘ব্যাটিংয়ে নামার আগে আমার বস (মাশরাফি) অনেক সহায়তা করেছেন। চাপটা হালকা করে দিয়েছেন। বললেন, ‘তুই তো মরে যাচ্ছিস না। সুযোগ পেয়েছিস। সুযোগটা কাজে লাগা। শূন্য করলে অসুবিধা নেই। তুই যখন খারাপ খেলিস কী হয়? দল থেকে বাদ পড়িস। এ ম্যাচকে স্বাভাবিকভাবেই নে।’ এর পরই ম্যাচটা অনেক সহজ হয়ে গেছে।’’

ইমরুলকে কীভাবে টোটকা দিলেন, সেটিও বিস্তারিত খুলে বললেন মাশরাফি। বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, কতটা চাপে ছিলেন ইমরুল, ‘যখন বাস থেকে ড্রেসিংরুমে ঢুকলাম, ওকে বললাম, তুই আজ খেলবি। ওকে খুব নার্ভাস মনে হচ্ছিল। সবাই কথা বলছে, সে একা একা বসে আছে। বললাম, বিশ্বকাপে অনেক চিন্তা করে রান পাসনি। এখানে চিন্তা না করেই খেল। দেখা যাক কী হয়...।’

কেবল ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্কই নয়, সতীর্থদের মন পড়ে ফেলার এ এক আশ্চর্য ক্ষমতা মাশরাফির। প্রেরণার গল্পটা যত শোনা যায় ততই যেন ভালো লাগে। টানা পাঁচ ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাংলাদেশ অধিনায়ক বললেন, ‘কখনো অনেক চিন্তা করেও কিছু হয় না। আবার কখনো চিন্তা না করে খেললে অনেক নির্ভার লাগে। ওটাই ওকে বোঝাচ্ছিলাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে স্বাচ্ছন্দ্যে রান পাচ্ছে। চেয়েছিলাম ওভাবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করুক। যেটা চেয়েছিলাম, তা করতে পেরেছে। আর রান করতে ভাগ্যের ছোঁয়া অবশ্যই লাগে। মুশফিক আগের দিন সেঞ্চুরি করেও ভাগ্যের কথা বলে গেছে। আশা করি ইমরুল এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।’

এমন অধিনায়ক পাশে থাকলে, একজন ব্যাটসম্যানের আর কী লাগে! ইমরুল এখন চোখ মেলতেই পারেন সুদূরে। মাশরাফি তো পাশেই আছেন!

ঢাকা, সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ১৭৫৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন