bdlive24

'ক্রিকেট খেলা যেনো বাবার বড় সন্তান'

মঙ্গলবার নভেম্বর ১৭, ২০১৫, ০৪:৪৯ পিএম.


'ক্রিকেট খেলা যেনো বাবার বড় সন্তান'

বিডিলাইভ ডেস্ক: আইসিসি ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের কন্যা হিসেবে ক্রিকেট মহল এমনকি সবার কাছে বেশি পরিচিত মুখ। কিন্তু বিপিএল দিয়েই সংগঠক হিসেবে নিজেকে চেনাতে শুরু করেছেন নাফিসা কামাল।

এবারের বিপিএলে নবাগত দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন পরিচয় নিয়ে আর্বিভূত হলেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে প্রথম প্রজন্মের নারী সংগঠক হিসেবে কথা বলেছেন তিনি।

নিজের ক্রিকেটের সঙ্গে জড়ানো, নারী সংগঠক হিসেবে প্রতিশ্রুতি ও বিপিএল নিয়ে ভাবনার কথা বলেছেন তিনি।

ক্রিকেটের সঙ্গে জড়ানো আমার জন্য খুব স্বাভাবিক একটা বিষয় ছিলো। সব বাবা-মা চান, তারা যে কাজটা শুরু করেছিলেন, তাদের সন্তান যেনো সেটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমার বাবার যত পরিশ্রম, যত কষ্ট, তার বেশিরভাগটাই ক্রিকেট নিয়ে। ফলে ক্রিকেটে আমাকে আসতেই হতো।

ক্রিকেটের ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহটাও একেবারে কম নয়। আসলে ছোটবেলা থেকে আমি অন্তত ক্রিকেটের একটা অংশ হিসেবেই বড় হয়ে উঠেছি। এই কৃতিত্বটাও বাবার। উনি আমাদের ভেতরে এই ভালোবাসাটা ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন।

শুধু আমার জীবনে নয়, আমাদের পরিবারেই ক্রিকেট অনেক বড় একটা রোল প্লে করে। আমি তো প্রায়ই মজা করে বলি, বাবার তিনটে সন্তান। আমরা দুই বোন আর ক্রিকেট। তবে ক্রিকেট মনে হয় বড় সন্তান!

আমরা ছোটবেলা থেকে দেখেছি, বাবার কাছে ক্রিকেট সবার আগে। দেশের কোনো খেলা থাকলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো খেলা থাকলে, আমরা কোনো দাওয়াতেও বেড়াতে যেতে পারিনি। কারণ, বাবা খেলা দেখবেন। পরীক্ষার আগের রাতে বাবার সঙ্গে বসে আমরা সবাই খেলা দেখছি, এমন অনেক হয়েছে। বাবা স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমাকে মাঠে নিয়ে যেতো।


বাবা বিসিবিতে এসেছেন তো অনেক পরে। আগে তো আবাহনীর কর্মকর্তা। আবাহনীর ম্যাচ তো একটাও মিস করতাম না। আমাদের পিকনিক বলে কিছু ছিলো না। আবাহনীর খেলাই ছিলো পিকনিক। বাবার কেন যেন মনে হতো, আবাহনীর খেলার দিন বাসায় রান্না হলে আবাহনী হেরে যাবে। তাই আমরা এদিন কখনো বাসায় রান্না হতে দেখিনি। মাঠে গিয়ে পিকনিকের মতো করে বাইরের খাবার খেতাম।

সংগঠক হিসেবে বেড অব রোজেস ছিলো না আমার এই পর্যন্ত আসাটা। লোটাস কামালের মেয়ে হিসেবে আমি অনেক সুবিধা পেয়েছি। পাশাপাশি কিছু প্রতিবন্ধকতাও আমাকে পার করতে হচ্ছে বাবার নামের জন্য। সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলছি না।

এটুকু বলতে পারি, বাবার কর্মকাণ্ডের তো কিছু ক্রিটিক ছিলেন; সেটা দীর্ঘদিন কাজ করলে যে কারো থাকবে। আমি বাই ডিফল্ট ওই সমালোচকদের আমার জন্যও পেয়ে গেছি।

নারী সংগঠক হিসেবে কোনো বিশেষ বাধা পার করতে হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আমাকে অবশ্যই মানতে হবে যে, ক্রিকেট মহলে আমি একজন নারী হিসেবে কোনো বাধা পাইনি। বরং আমাকে সবাই দারুণ সহায়তা করছেন। সংগঠক এবং ক্রিকেটারদের কাছ থেকে ভালো শ্রদ্ধা পাচ্ছি।

তবে হ্যাঁ, অনুভব করতে পারি যে, আমি এখানে একা। বিপিএল লটারির দিনটার কথা খুব মনে পড়ে। হলরুমে হঠাৎ খেয়াল করলাম, তিন-চারশ মানুষ বসে আছি আমরা; এর মধ্যে মেয়ে কেবল একা আমি।

একজন নারী সংগঠক হিসেবে আমি আগে ক্লাব পর্যায়ে মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে কাজ করতে চাই। নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়ে আসতে চাই। ক্রিকেটে আমার কর্মকাণ্ড হলো মূলত বাবার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করা। আমার বাবা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক লড়াই করেছেন।

নিজ দলের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার হিসেবে তো খুব ভালো দল হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, অধিনায়ক হিসেবে আমরা মাশরাফিকে পেয়েছি। সে সারা দেশেরই অনেক বড় আইকন। কুমিল্লার মানুষ তার জন্য পাগল। আমরাও মাশরাফির প্রবল ভক্ত।

তাই অধিনায়ক হিসেবে তাকে পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় ব্যাপার ছিলো। এছাড়া লিটন, রাব্বি, ইমরুলসহ দেশি খেলোয়াররা সবাই খুব ভালো। বিদেশি রিক্রুটমেন্ট দারুণ হয়েছে। আমি খুব আশাবাদী।

মালিক হিসেবে কথা বলতে ইচ্ছে করে। মনে তো হয়, খেলা চলার সময়ও বলি, এটা নয়, ওটা করো। তবে আমি আমার ভূমিকা জানি। আমি যা কথা বলার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বলবো। খেলোয়াড়রা আমাকে দেখবে, মাঠে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের একজন সমর্থক হিসেবে। মাঠে চিৎকার করবো, হারলে মন খারাপ করবো, জিতলে এনজয় করবো, খারাপ করলে গালি দেবো। তবে সেটা মালিক হিসেবে নয়; একজন ভিক্টোরিয়ান হিসেবে।

কুমিল্লার ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছা আছে? এর মাঝে বাবা কুমিল্লায় ছোট পরিসরে হলেও একটা অ্যাকাডেমি শুরু করেছেন। সেটাকে বড় করতে চাই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ব্যানারে। আমি চাই জাতীয় ক্রিকেটাররা এসব কাজে যুক্ত থাকবেন।


ঢাকা, নভেম্বর ১৭(বিডিলাইভ২৪)// জে এস
 
        print



মোবাইল থেকে অ্যাপস ডাউনলোড করুন
android iphone windows




bdlive24.com © 2010-2014
Powered By: NRB Investment Ltd.