সর্বশেষ
সোমবার ৯ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

যে কারণে কম কথা বলেন মুস্তাফিজ!

বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৫

102114750_1449154658.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
‘ওকে একটা কথাই বলি, নিজের ওপর বিশ্বাসটা রাখবা আর কথা কম বলবা’, সাতক্ষীরা থেকে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বলছিলেন গতরাতে দেশের সবচেয়ে গর্বিত গুরু মুফাসসিনুল ইসলাম তপু। গর্ব তো তাঁর হবেই। ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ স্টাইলে এপ্রিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত তাঁর ছাত্র যে কাল জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বমানচিত্রে। আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে একাদশে মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তিতে মুফাসসিনুলের গর্ব আর সবার চেয়ে স্বভাবতই একটু বেশি।

আরেকজনের গর্বের মাত্রাও একটু বেশি। নইলে প্রশ্ন শুনে প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা কেন বলবেন, ‘আপনারা প্রশ্ন না করলেও মুস্তাফিজের কথা আমি বলতাম। আশা করছি এ সাফল্য ও ধরে রাখবে। এত অল্প বয়সে এত কম সময়ে আমাদের একটা ছেলে এত বড় একটা জায়গায় গিয়েছে-এটা পুরো দেশের জন্যই দারুণ গর্বের ব্যাপার। তবে আশা করব এটা, যেন ওর ওপর কেউ চাপ তৈরি না করে। খারাপ সময় মুস্তাফিজেরও আসবে, তখনো যেন সবাই সমর্থন করেন।’

আর যাঁকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আনন্দের উচ্ছ্বাস, সেই মুস্তাফিজ মাইক্রোফোনের সামনে প্রায় নির্বাক! ‘খুশি তো লাগছেই’, কিন্তু তাঁর বলার ধরনে আনন্দের গভীরতা পরিমাপের উপায় নেই। সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে যত আবেগ টেনে বের করার চেষ্টা হয়, ততই গুটিয়ে যান মুস্তাফিজ। ভালো একটা উক্তির জন্য মরণলড়াইয়ে নামা মিডিয়াকেও যেন একের পর এক ‘কাটার’ আর ‘স্লোয়ারে’ কাবু করে গেছেন বাঁহাতি এ পেসার!

বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ওই প্রান্ত থেকে সবটা শুনে হাসেন মুস্তাফিজের শৈশবের কোচ মুফাসসিনুল, ‘আসলে গ্রামের ছেলে তো, তাই শহুরে মানুষদের সামনে বেশি কথা বলতে চায় না। এমনিতে একটু কম কথাই বলে। আর জাতীয় দলে ঢোকার পর জেনে গেছে ওর একটা কথারই অনেক গুরুত্ব। আবার না ভুল কিছু বলে বসে, সে জন্যই হয়তো একটু সংযত হয়ে কথা বলে। কিছু মনে করবেন না ভাই!’

কে কী মনে করবে? মাত্র ছয় মাসের ‘স্পেলে’ বিশ্ব একাদশে জায়গা করে নেওয়া বোলার প্রশ্নের উত্তর না দিলেই-বা কী! শুনে যেন আশ্বস্ত হলেন মুফাসসিনুল, ‘খুব সাদামাটা ছেলে। আমিই বলেছি, কথাটথা বেশি না বলতে।’ গুরুর এ আদেশ মুস্তাফিজ সহসা অমান্য করবেন বলে মনে হচ্ছে না। যদিও অনুশীলনে-মাঠে কিংবা ড্রেসিংরুমে মোটেও নির্বাক থাকেন না তিনি, বরং ‘মজার ছেলে’ হিসেবে সমাদর আছে তাঁর।

শিষ্য বিশ্ব মাতান আর গুরুকে নিয়ে মাতে সাতক্ষীরার মানুষ। কেমন লাগে-প্রশ্নটা শুনেই আবেগাপ্লুত মুফাসসিনুল, ‘একসময় ওর সঙ্গে কাজ করেছি। সাবেক ছাত্রদের কেউ ভালো করলে তো ভালো লাগবেই। মনটা গর্বে ভরে গেছে ভাই। তবে আমার ছাত্র বলেই শুধু নয়, আমাদের শহরের একটা ছেলে বিশ্ব একাদশে জায়গা করে নিয়েছে বলেই আমি বেশি খুশি।’

তাঁর আনন্দের একটা অন্য কারণও আছে। মুস্তাফিজের আগে আইসিসির গড়া ওয়ানডের বিশ্ব একাদশে আর কোনো বাংলাদেশির জায়গা হয়নি। আর সে মর্যাদাও কিনা মিলল মাত্র মাস ছয়েকের চেষ্টায়! মুফাসসিনুল একাধারে রোমাঞ্চিত, ‘শুরুতে সবাই ব্যাটসম্যান হতে চায়। মুস্তাফিজও বলেছিল, স্যার আমি কিন্তু ব্যাটসম্যান হব। কিন্তু ব্যাটিংয়ের চেয়ে ওর বোলিংটাই বেশি ভালো মনে হয়েছিল।’ তবে এতটা যে উঁচুতে উঠবে, নিজের পাঠশালায় দেখে দূর কল্পনায়ও ভাবেননি মুস্তাফিজের শৈশবের গুরু, ‘ওর ভালো করার চেষ্টা আর জেদ ছিল। বিশ্বাস করতাম একদিন ও নাম করবে। কিন্তু এতটা হৈচৈ ফেলে দেবে, সেটা ভাবিনি।’ পরক্ষণেই সতর্ক তিনি, ‘তবে মাত্র তো কয়েকটা মাস হলো। রাতে ওর সঙ্গে কথা হলে পুরনো কথাটাই বলব যে, কোনো কিছু অর্জন করার চেয়ে সেটা ধরে রাখা আরো কঠিন।’ গুরুর কথায় বহুদিন ধরেই নাকি দ্বিমত নেই মুস্তাফিজের, ‘ও নিজেও ব্যাপারটা জানে। আগেও যতবার কথা হয়েছে ও নিজে থেকেই কথাটা বলেছে। খুব সাধারণ ছেলে মুস্তাফিজ। আমার মনে হয় না সাফল্য ওর মাথা ঘুরিয়ে দেবে। সবসময় সৃষ্টিকর্তার ওপর, নিজের ওপর আস্থা রাখে।’

আজকের মুস্তাফিজ কত দূর যাবেন, তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে আশীর্বাদই বেশি করেন মুফাসসিনুল, ‘দোয়া করি মুস্তাফিজ যেন আরো বহুদূর যায়। ইনশা আল্লাহ যাবে।’ মুস্তাফিজের মাঝে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অবশ্য এখনই দেখতে পাচ্ছেন মাশরাফি, ‘এত অল্প সময়ে ও যা করেছে বাংলাদেশের আর কেউ সেটা করতে পারেনি। মুস্তাফিজ যদি আরো বছর দশেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে তাহলে এমন কিছু করে যাবে, যা বাংলাদেশের আর কেউ করতে পারেনি।’

সেদিনের অপেক্ষায়-ই সবাই। কালেরকণ্ঠ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ৬৩০৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন