সর্বশেষ
রবিবার ১০ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২৪ জুন ২০১৮

টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের মন্ত্র পেলেন তামিম!

শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫

1384480100_1449915902.png
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
বিপিএল এত দিন তাঁর জন্য ছিল একটা বিষাদের নাম। প্রথম বিপিএলে মালিক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন। দ্বিতীয় আসরে অসুস্থতার জন্য খেলতে পারলেন না সব ম্যাচ। ২০ ওভারের এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টটা নিয়ে অন্যদের মনে যত উৎসাহ-উদ্দীপনাই থাকুক না কেন, তামিম ইকবাল বিপিএলের ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হয়েই ছিলেন এত দিন।

এবার কী তবে ভাগ্যটা বদলাল? চিটাগং ভাইকিংসের পারফরম্যান্স অবশ্য সে কথা বলে না। দশ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্বে একেবারে তলানিতে তারা। অধিনায়ক হিসেবে তামিমের হতাশাটা বোঝাই যায়। হতাশ দলের অন্যরাও। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ডিবিএল গ্রুপ চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি। তার পরও সেমিফাইনালে উঠতে না পারাটা তামিমের কাছে দূর্ভাগ্যজনক, ‘আমাদের টিম বয় থেকে শুরু করে বিদেশি খেলোয়াড়, ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই। মালিক পক্ষের ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয় ছিল। এ রকম ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়া কপালের ব্যাপার। সব ফ্র্যাঞ্চাইজি এমন হলে তো কথাই ছিল না! কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে যে ফলাফলটা আমি চাচ্ছিলাম, যে লক্ষ্যটা ঠিক করেছিলাম, সেটা অর্জিত হয়নি। দলের সবার মধ্যেই এ নিয়ে হতাশা আছে।’

ছুটি কাটাতে আজ রাতে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার সময়ও হতাশাটা সঙ্গী হবে তামিমের। তবে দলের পারফরম্যান্স বাদ দিলে এবারের বিপিএল থেকে তাঁর প্রাপ্তিও একেবারে কম নয়। স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে যাদের পারফরম্যান্স আলো ছড়িয়েছে, তাদের মধ্যে তামিম আছেন ওপরের দিকেই। লিগ পর্বে ৯ ম্যাচ খেলে তিন ফিফটিসহ করেছেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান (২৯৮)। তাঁর ওপরে আছেন কেবল ঢাকা ডাইনামাইটসের শ্রীলঙ্কান তারকা কুমার সাঙ্গাকারা (৩৩৯)।

প্রথম দুই বিপিএলের একটা বড় দুঃখ ঘুচিয়েছে ব্যাট হাতে নিজের এই পারফরম্যান্স, ‘প্রথম দুই মৌসুমে আমি অনেক ম্যাচ খেলতে পারিনি। বিভিন্ন সমস্যা ছিল, অসুস্থও ছিলাম। মাঠের বাইরে থেকে যখন দেখতাম জাতীয় দলে আমার অন্য সতীর্থরা খুব ভালো খেলছে, মনে হতো আমিও যদি এ রকম খেলতে পারতাম! এ বছর সেই আক্ষেপটা অন্তত দূর হয়ে গেছে।’

তবে তামিমের আসল তৃপ্তি অন্য জায়গায়। টি-টোয়েন্টিতে কীভাবে ভালো ব্যাটিং করতে হবে, সেই সূত্রটাই ধরতে পারছিলেন না এত দিন। রহস্যের জট খুললেন এবারের বিপিএলে, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমার ব্যাটিংটা কী রকম হওয়া উচিত, এত দিন সেটা বুঝতাম না। এই একটা ফরম্যাট নিয়ে আমি খুব চিন্তিত ছিলাম। ওয়ানডে বা টেস্টে আমি যতটুকুই সফল, টি-টোয়েন্টিতে ততটা না। আমরা খুব বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ না খেলায় পরিকল্পনাও করতে পারছিলাম না এ ধরনের ক্রিকেটে ঠিক কীভাবে ব্যাটিং করা উচিত। এখন আমি সেটা বুঝে গেছি।’

‘টি-টোয়েন্টির তরিকা’ খুঁজে পেয়ে এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আরও বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার, ‘এবার কঠিন উইকেটেও রান করেছি। আত্মবিশ্বাসও তাই অনেক বেড়ে গেছে।’

বিপিএলের তৃতীয় আসর আরও একটা নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে তামিমকে। তিন আসরের মধ্যে এবারের টুর্নামেন্টটাকেই এখন পর্যন্ত সবদিক দিয়ে পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে তাঁর কাছে, ‘প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যেই এবার অনেক বেশি পেশাদারি মানসিকতা দেখেছি আমি। প্রত্যেকটা দল ভালো ভালো হোটেলে ছিল। এর আগে তো আমরা এমন জায়গাতেও ছিলাম, নিচে মার্কেট ওপরে হোটেল! কিন্তু এবার আসলেই মনে হয়েছে একটা টপ টুর্নামেন্ট খেলছি। দু-একটা দলে টাকা পয়সার সমস্যা থাকলেও আশা করি বিসিবি সেটা সমাধান করে ফেলবে।’

ঢাকা, শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৫ (বিডিলাইভ২৪) // এম এস এই লেখাটি ১৫৮৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন