সর্বশেষ
সোমবার ১১ই আষাঢ় ১৪২৫ | ২৫ জুন ২০১৮

বাংলাদেশের জন্য একটু অন্য রকম অলিম্পিক

শুক্রবার, আগস্ট ৫, ২০১৬

1199761660_1470365420.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
অলিম্পিকে অংশগ্রহন করাটাই যেনো বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন। ৩২ বছর ধরে বাংলাদেশ অংশগ্রহন করে আসছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর অলিম্পিকে। ৩২ বারের ভিতর একবারো পদকের দেখা পায়নি বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদেরা। তবে এবারের আসরটা বাংলাদেশের জন্য একটু অন্যরকম। এবারের আসরে  সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে একটু আসার আলো দেখছেন অনেকেই।

আজ ব্রাজিলের রিওতে (বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৫টায়) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে যে অলিম্পিক আসরের, সেটা বাংলাদেশের জন্য একটু অন্য রকম। এবার একেবারেই ‘অংশগ্রহণই বড় কথা’র আপ্তবাক্য নিয়ে বাংলাদেশ যায়নি। অলীক কোনো প্রত্যাশার চাপ চাপিয়ে না দিলেও সিদ্দিকুরকে নিয়ে একরকম আশা তৈরি তো হয়েছেই। বাংলাদেশ যে এর আগে আটটি অলিম্পিকে অংশ নিয়ে একটি পদকও জেতেনি।

শুধু বাংলাদেশ বলে নয়; এবারের অলিম্পিকটা আসলে অনেক দিক দিয়ে ‘একটু অন্য রকম’ হতে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, আধুনিক অলিম্পিক তার ইতিহাসে কখনো এত সংকটে পড়েনি। গতকালও রিওতে বিক্ষোভ হয়েছে। ইউরোপের সংবাদমাধ্যম অনিশ্চয়তামাখা সংবাদ দিচ্ছে এই প্রশ্ন তুলে, ‘ব্রাজিল কি অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত?’ জিকা ভাইরাসের শঙ্কায় অলিম্পিক থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অনেক ক্রীড়াবিদ। নিরাপত্তা-শঙ্কা তো আছেই। সন্ত্রাসী হামলার চেয়ে ছোটখাটো চুরি-ছিনতাইয়ের সমস্যাও স্বস্তি দিচ্ছে না আয়োজকদের। ৮৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মীকে প্রতিটা মুহূর্ত থাকতে হবে সতর্ক প্রহরায়, সংখ্যাটি গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ।

ব্রাজিলের রাজনীতিও চলেছে টালমাটাল এক সময়ের ভেতর দিয়ে। আজ বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করার কথা ছিল যাঁর, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই দিলমা রুসেফের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অনাস্থা। রিওতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তোড়জোড়ের মধ্যেই ব্রাসিলিয়াতে কাল হওয়ার কথা ছিল অভিশংসনও!

খোদ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) চলেছে সংকটের ভেতর দিয়ে। অলিম্পিকের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি, পদক তালিকায় যারা বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্লা দেয়, সেই রাশিয়া ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল না রাশিয়ার কতজন অংশ নিতে চলেছেন এবারের অলিম্পিকে। ৩৮৭ জনের মধ্যে ১১৭ জন অংশ নিতে পারবেন না বলেই তখন পর্যন্ত ছিল খবর।

এত এত নেতিবাচক খবরের কারণেই কি না, গতকাল পর্যন্ত ১২ লাখ টিকিট বিক্রি হয়নি বলে খবর দিয়েছিল বার্তা সংস্থা এএফপি। তবে একবার পর্দা উঠে গেলেই সবার মনোযোগ খেলাতেই আটকে থাকবে বলেই আশা। অবশ্য বিশ্বের সেরা ক্রীড়াবিদদের আগেই দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিতে চায় রিও। জাঁকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে। লন্ডন অলিম্পিকে যে অনুষ্ঠান দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন অস্কারজয়ী পরিচালক ড্যানি বয়েল। রিও হাজির করবে তার নিজস্ব ঐতিহ্য। সাম্বার সুরে এগিয়ে যাবে বহু রঙে বর্ণিল কার্নিভ্যাল। থাকবেন সুপারমডেল জিসেল বুন্ডশেন থেকে ফুটবল কিংবদন্তি পেলে। পেলেই কি চূড়ান্ত মশাল প্রজ্বালন করবেন? এ নিয়ে রহস্য রেখে দেওয়ার চেষ্টা সব সময়ই তো করা হয়। তবে এই অংশে থাকবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও। আইওসির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে মশালযাত্রার সমাপনী অংশে থাকবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ইদানীং যতই চাকচিক্য বাড়ুক উদ্বোধন কিংবা সমাপনী অনুষ্ঠানে; শেষ পর্যন্ত আসল তারকা ক্রীড়াবিদেরাই। ১৭ দিনের এই আয়োজনে আসল আলো তো ছড়াবেন তাঁরাই। যখন ট্র্যাকে উসাইন বোল্ট ঝড় তুলতে শুরু করবেন। টানা তিন অলিম্পিকে নয়টি সোনা জয়ের অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়তেই রিওতে এসেছেন জ্যামাইকার গতিদানব। মত পাল্টে অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন ‘জলদানব’ মাইকেল ফেল্প্সও। ১৮টি সোনাসহ ২২টি অলিম্পিক পদক অবশ্য গতবারই ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব দিয়েছে মার্কিন সাঁতারুকে।

তবে অলিম্পিকের সবচেয়ে বড় ব্যাপার সম্ভবত এই, এখানে বোল্ট-ফেল্প্সের সঙ্গে বাকিরাও সমান মর্যাদায় আতিথ্য পাবেন। অলিম্পিক ভিলেজ যেন সত্যিকারের এক সাম্যবাদী গ্রাম। ৩০৬টি সোনার জন্য যেখানে প্রায় ১২ হাজার অ্যাথলেট থাকবেন, সেখানে বোল্ট আর সিদ্দিকুরের মধ্যে দৃশ্যত কোনো পার্থক্য নেই। সিদ্দিকুরসহ এবারের অলিম্পিকে থাকছেন বাংলাদেশের সাত ক্রীড়াবিদও। তাঁরা অন্তত পরের প্রজন্মে এই বিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে চাইবেন, ‘আমরাও পারি।’
১৪ আগস্ট ২০১৬, কী হবে জানা নেই। তবে একদিন নিশ্চয়ই পদকমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা সগর্বে উড়বে; নেপথ্যে বাজবে সেই হৃদয়ছোঁয়া ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...’।

ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ৫, ২০১৬ (বিডিলাইভ২৪) // ম র এই লেখাটি ১২১১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন