নির্বাচনে সেনা মোতায়নের দাবি ইসলামী দুই দলের
নির্বাচনে সেনা মোতায়নের দাবি ইসলামী দুই দলের

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়নের দাবি জানিয়েছে ইসলামি ফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলনের নিবন্ধিত এই দু'টি দল।

আজ রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে তারা এই দাবি জানায়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে আগারগাঁস্থ নির্বাচন ভবনে চারজন নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে সংলাপ করে। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন জানান, একাদশ সংসদ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১০ দফা সুপারিশ রাখা হয়। এরমধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইসির অধীনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে রাখা, নির্বাচনী বিতর্ক, দলের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার বাধ্যবকতা বাতিলের সুপারিশ রয়েছে।

সকাল ১০টায় সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, মহিলাদেরকে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্বাহী কমিটিতে সীমিত কোটায় না রেখে প্রত্যেক দলের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন করে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হোক। বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে দলের কমিটির প্রত্যেক স্তরে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।

অপরদিকে, বিকাল ৩টায় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মো. ইউনুছ আহমাদের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেন। সবার কাছে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশনকে আইনের আওতায় এনে কাঠগড়ায় দাড় করানো, সেই সঙ্গে নির্বাচনের একদিন আগে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে দলটি।
 
সংলাপে দলটি সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় কেউ যদি নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য সংসদ ভেঙে নিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানায়।

এদিকে সংলাপের উল্লেখযোগ্য দাবি গুলো হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত,স্বাধীন এবং শক্তিশারী করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকতে হবে। এরপরও যদি সুষ্ঠনির্বাচনে ব্যর্থ হলে এবং নির্বাচনকালীন পক্ষপাতদুষ্ট প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহীতার জন্য আইনি কাঠামো প্রনয়ন করা। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সবোর্চ্চ আদালত কর্তৃক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা। নির্বাচন কমিশনের এমন ক্ষমতা থাকতে হবে, যে কোন দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা যদি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নৈরাজ্যকরে সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। এই মর্মে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা।

ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১০(বিডিলাইভ২৪)