সর্বশেষ
রবিবার ২৮শে চৈত্র ১৪২৭ | ১১ এপ্রিল ২০২১

চলে গেলেন বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের

শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০

Alijaker.jpeg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য অভিনেতা আলী যাকের আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

আজ শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

গত ৪ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়েছেন এই গুনি অভিনেতা। এ ছাড়া তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছিলেন।

বার্ধক্য, হার্টের সমস্যাসহ কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে গত ১৭ নভেম্বর আলী যাকেরকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এছাড়া গত চার বছর ধরে তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত তার থেরাপি চলছিল। তারই মধ্যে আবার তিনি করোনায়ও আক্রান্ত হন। এরপর তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রতনপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। গত ৬ নভেম্বর নিজ বাসায় ঘরোয়া আয়োজনে ৭৬তম জন্মদিন পালন করেন এই অভিনেতা।

১৯৬০ সালে সেন্ট গ্রেগরি থেকে ম্যাট্রিক পাস করে নটরডেমে ভর্তি হন আলী যাকের। সেখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। এরপর সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক করেন। অনার্স পড়াকালেই ছাত্ররাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। অনার্স শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে চলে যান করাচি। সেখানেই প্রথম অভিনয় করেন আলী যাকের। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় ফিরেন তিনি।

১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল আলী যাকেরের। ১৯৭৩ সালে তিনি যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে। টিভির পর্দায় ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’সহ বহু দর্শকপ্রিয় নাটকে তাকে দেখা গেছে।

অভিনয়ের বাইরে আলী যাকের নাটক নির্দেশনা ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। এছাড়া তিনি একজন নাট্য সংগঠকও। ‘অচলায়তন’, ‘বাকী ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘তৈল সংকট’, ‘এই নিষিদ্ধ পল্লীতে’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।


ঢাকা, শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৪৮৮৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন